ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ADVERTISEMENT AREA

মধুপুরের লাল মাটিতে কাজুবাদামের স্বপ্ন, বদলে যাচ্ছে কৃষির নতুন মানচিত্র

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jul 3, 2026 ইং
মধুপুরের লাল মাটিতে কাজুবাদামের স্বপ্ন ছবির ক্যাপশন: মধুপুরের লাল মাটিতে কাজুবাদামের স্বপ্ন
টাঙ্গাইলের মধুপুর গড়াঞ্চল এতদিন পরিচিত ছিল আনারসের রাজধানী হিসেবে। তবে সময়ের সঙ্গে সেই পরিচয়ে যুক্ত হচ্ছে নতুন সম্ভাবনার আরেক নাম কাজুবাদাম। পাহাড়ি লাল মাটি, উঁচু জমি ও অনুকূল আবহাওয়াকে কাজে লাগিয়ে এ অঞ্চলের কৃষকরা এখন ঝুঁকছেন উচ্চমূল্যের এই অর্থকরী ফসলের দিকে। ইতোমধ্যে অনেক বাগানে ফলনও আসতে শুরু করেছে, যা স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে নতুন স্বপ্নের জন্ম দিয়েছে।

মধুপুরের বিস্তীর্ণ পাহাড়ি এলাকায় এখন দেখা মিলছে সারি সারি কাজুবাদাম গাছের। সবুজ পাতার আড়ালে ফুটে থাকা গোলাপি ফুল ধীরে ধীরে পরিণত হচ্ছে কাজুবাদামে। দৃষ্টিনন্দন এই দৃশ্য শুধু কৃষকদের নয়, আকৃষ্ট করছে দর্শনার্থীদেরও। ফলে কাজুবাদামের বাগানগুলো ধীরে ধীরে হয়ে উঠছে নতুন আকর্ষণের কেন্দ্র।
কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, মধুপুরের লাল ও অম্লীয় মাটি কাজুবাদাম চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। এ অঞ্চলের মাটিতে থাকা আয়রন ও অ্যালুমিনিয়াম গাছের দ্রুত বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। পাশাপাশি উঁচু জমিতে পানি জমে না থাকায় গাছের শিকড় ভালোভাবে বিস্তার লাভ করতে পারে, যা ফলনের জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।
কৃষি কর্মকর্তারা জানান, চারা রোপণের প্রায় দুই বছর পর থেকেই কাজুবাদাম গাছে ফল ধরা শুরু হয়। সঠিক পরিচর্যা, পরিমিত সার প্রয়োগ এবং নিয়মিত সেচ নিশ্চিত করা গেলে ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিটি গাছ ৭ থেকে ৮ মিটার দূরত্ব বজায় রেখে লাগালে উৎপাদন আরও বাড়ে।

স্থানীয় কৃষক হানিফ মিয়া বলেন, কৃষি বিভাগের সহায়তায় তিনি পরীক্ষামূলকভাবে কাজুবাদাম চাষ শুরু করেছিলেন। মাত্র দুই বছরের মধ্যেই গাছে আশানুরূপ ফল এসেছে। তার সফলতা দেখে আশপাশের অনেক কৃষক এখন কাজুবাদাম চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।তিনি বলেন, অন্যান্য ফসলের তুলনায় কাজুবাদামে লাভ বেশি। ভবিষ্যতে আনারসের পর মধুপুরের অন্যতম প্রধান অর্থকরী ফসল হতে পারে এটি।

আরেক কৃষক লিটন মিয়া জানান, দীর্ঘদিন ধরে তিনি আনারস চাষ করলেও এখন কাজুবাদামের প্রতি বেশি আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। তার মতে, মধুপুরের পাহাড়ি লাল মাটি ও অনুকূল জলবায়ু এই ফসলের জন্য আদর্শ পরিবেশ তৈরি করেছে।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা  বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে কাজুবাদামের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। একবার গাছ লাগালে ৩৫ থেকে ৪০ বছর পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়, যা কৃষকদের দীর্ঘমেয়াদি লাভ নিশ্চিত করতে পারে।

তিনি আরও বলেন, দেশে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ কাজুবাদাম আমদানি করতে হয়। মধুপুরসহ দেশের পাহাড়ি এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে কাজুবাদাম চাষ সম্প্রসারণ করা গেলে আমদানি নির্ভরতা কমবে এবং বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে।

কৃষি গবেষণা বিভাগের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা  জানান, টাঙ্গাইলের পাহাড়ি অঞ্চলে কাজুবাদাম চাষ সম্প্রসারণে বিভিন্ন কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। কৃষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তাও দেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয়দের বিশ্বাস, সরকারি সহায়তা ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো গেলে মধুপুরের কাজুবাদাম একসময় দেশের কৃষি অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবে। আনারস, কলা, পেঁপে ও আদার পাশাপাশি কাজুবাদাম যুক্ত হওয়ায় মধুপুরের কৃষিতে তৈরি হয়েছে নতুন সম্ভাবনার দিগন্ত।

নিউজটি আপডেট করেছেন : দেশ বাংলা টিভি ডেক্স

কমেন্ট বক্স
মৃত্যু চিন্তাই মানুষকে সত্যিকারের সৎ মানুষ করে তুলে
আমি ত আমিই,  আমার যত্ন নিলেই ত সব হয়ে যায়। 
আমি কে?
‎হয়তো, আমি কোনো নাম নয়, কোনো দেহ নয়, কোনো পরিচয়ও নয়, বরং এক অনন্ত চেতনার ক্ষুদ্র প্রকাশ,
যা,জন্ম,মৃত্যু,লাভ,ক্ষতি,সুখ,দুঃখ,সবকিছুর ঊর্ধ্বে থেকে নিজেকেই খুঁজে বেড়ায়।